ভূমিকা
যুবক ও যুবতী হলো কোনো জাতির সবচেয়ে শক্তিশালী স্তম্ভ। এই সময়ে মানুষ শারীরিকভাবে সবল, মানসিকভাবে সক্রিয় এবং স্বপ্নে ভরপুর থাকে। ঠিক এই কারণেই ইসলাম যুবসময়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আধুনিক ফিতনার এই যুগে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে এই যুবসমাজই।
ফিতনার যুগ ও যুবসমাজের বাস্তব চিত্র
আজকের পৃথিবী বাহ্যিকভাবে উন্নত, কিন্তু আত্মিকভাবে শূন্য। এই শূন্যতার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে তরুণ হৃদয়গুলো।
বর্তমান সময়ের ফিতনা আগের যুগের মতো প্রকাশ্য নয়। আজ হারাম আসে সুন্দর মোড়কে। বিনোদনের নামে গুনাহ, স্বাধীনতার নামে সীমালঙ্ঘন, আধুনিকতার নামে দ্বীনি মূল্যবোধকে পিছনে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।
একজন যুবক বা যুবতী আজ ঘুম থেকে ওঠে মোবাইলের স্ক্রিনে চোখ রেখে এবং রাত শেষ করে একইভাবে। নামাজের সময় পিছিয়ে যায়, কুরআনের জন্য সময় থাকে না, অথচ সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বের হয়ে যায়। এই চিত্র আজ ব্যতিক্রম নয়, বরং স্বাভাবিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আল্লাহ থেকে দূরে সরে গেলে যা ঘটে
যখন একজন যুবক আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরে যায়, তখন তার অন্তরে শান্তি থাকে না। বাহ্যিকভাবে সে হাসিখুশি মনে হলেও ভেতরে থাকে অস্থিরতা, হতাশা ও শূন্যতা। এজন্যই আজ এত অল্প বয়সে মানসিক চাপ, হতাশা এবং আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা যাচ্ছে।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ব্যক্তির জীবন সংকীর্ণ হয়ে যায়। এই সংকীর্ণতা শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং মানসিক ও আত্মিক।
সোশ্যাল মিডিয়া ও মোবাইল আসক্তি: নীরব শত্রু
সোশ্যাল মিডিয়া আজ যুবসমাজের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষার জায়গা। এখানে চোখের গুনাহ সহজ, সময় নষ্ট সহজ, আর আত্মসংযম সবচেয়ে কঠিন। প্রথমে মনে হয় সামান্য বিনোদন, কিন্তু ধীরে ধীরে তা অভ্যাসে পরিণত হয়।
যেমন, ধোঁয়া চোখে দেখা যায় না, কিন্তু ধীরে ধীরে শ্বাসরোধ করে। সোশ্যাল মিডিয়াও তেমনি। এটি ধীরে ধীরে ঈমানের শক্তি কমিয়ে দেয়, আর মানুষ টের পায় যখন অনেক কিছু হাতছাড়া হয়ে যায়।
এখনো সময় আছে: ফিরে আসার আহ্বান
হে যুবক ও যুবতী, তোমাদের জন্য আল্লাহর দরজা আজও খোলা।
গুনাহ যত বড়ই হোক, তাওবার দরজা তার চেয়েও বড়। একটি সঠিক সিদ্ধান্ত, একটি নামাজ, একটি আন্তরিক দোয়া তোমার পুরো জীবনকে নতুন পথে নিয়ে যেতে পারে।
যেমন, ভুল পথে চলা কোনো যাত্রী যদি মাঝপথে থেমে সঠিক রাস্তা বেছে নেয়, তাহলে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব। কিন্তু সে যদি বলে “আরও একটু যাই”, তাহলে বিপদ বাড়ে।
যুবক–যুবতীদের করণীয়
প্রথমে নামাজকে জীবনের অগ্রাধিকার দাও।
মোবাইল ও প্রযুক্তিকে প্রয়োজনের সীমার মধ্যে রাখো।
ভালো সঙ্গ বেছে নাও, কারণ সঙ্গ মানুষকে গড়ে বা ভেঙে দেয়।
প্রতিদিন কুরআনের সঙ্গে অন্তত সামান্য সম্পর্ক রাখো।
আল্লাহর কাছে নিয়মিত সাহায্য চাও, কারণ প্রকৃত শক্তি তাঁর কাছেই।

