
প্রিয় যুবক ও যুবতী,
প্রিয় যুবক ও যুবতী,
এই সময়টা তোমাদের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়। শক্তি আছে, স্বপ্ন আছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে। কিন্তু ঠিক এই সময়েই শয়তান সবচেয়ে বেশি আক্রমণ করে। কারণ সে জানে, তোমরা যদি সঠিক পথে দাঁড়াও, তাহলে পুরো সমাজ বদলে যেতে পারে।
বাস্তবতা যা তোমরা অস্বীকার করতে পারো না
আজ তোমাদের দিন শুরু হয় ফোন দিয়ে আর শেষও হয় ফোন দিয়ে। চোখ খুলেই নোটিফিকেশন, রিলস, মেসেজ। নামাজ দেরি হয়, কুরআন পড়া পিছিয়ে যায়, অথচ স্ক্রিনের সামনে ঘণ্টা পার হয়ে যায় চোখের পলকেও টের পাওয়া যায় না।
একটু ভেবে দেখো—যদি পরীক্ষার সময় পড়াশোনা বাদ দিয়ে সারাদিন মোবাইলে থাকো, ফলাফল কী হবে? ঠিক তেমনি আখিরাতের পরীক্ষার জন্য যদি প্রস্তুতি না নাও, তাহলে তার ফলাফলও ভয়াবহ হবে।
ফিতনা আজ বিনোদনের মুখোশে
আজকের ফিতনা আগের মতো স্পষ্ট নয়। আজ হারাম আসে সুন্দর প্যাকেটে। গান, ভিডিও, বন্ধুত্ব, স্বাধীনতা—সবকিছুর মোড়কে গুনাহ ঢুকে পড়ে। প্রথমে মনে হয় “একটু দেখলে কী হবে”, কিন্তু সেই “একটু” একদিন অভ্যাসে পরিণত হয়।
যেমন, আগুনে হাত দিলে সঙ্গে সঙ্গে পুড়ে যায়, তাই মানুষ সাবধান থাকে। কিন্তু ধোঁয়া ধীরে ধীরে শ্বাস আটকে দেয়, টের পাওয়ার আগেই ক্ষতি হয়ে যায়। সোশ্যাল মিডিয়া ঠিক তেমনই।
তোমাদের অন্তরের শূন্যতা কোথা থেকে আসে
অনেকে বলে, “মন ভালো থাকে না”, “শান্তি পাই না”, “কিছু একটা মিস করছি”। এই শূন্যতা টাকা দিয়ে পূরণ হয় না, ফলোয়ার দিয়ে পূরণ হয় না, সম্পর্ক দিয়েও না। এই শূন্যতা তৈরি হয় আল্লাহ থেকে দূরে যাওয়ার কারণে।
একটি মোবাইল যত দামি হোক, চার্জ না থাকলে সেটি অচল। ঠিক তেমনি মানুষ যতই আধুনিক হোক, আল্লাহর সঙ্গে সংযোগ না থাকলে সে ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ে।
এখনো সময় আছে, দেরি হয়ে যায়নি
তোমরা ভাবো না যে খুব বেশি গুনাহ হয়ে গেছে। আল্লাহর দরজা বন্ধ হয়নি। একটি নামাজ, একটি তাওবা, একটি চোখের পানি তোমার পুরো জীবন বদলে দিতে পারে।
একটি বাস্তব উদাহরণ ভাবো—যে ট্রেন ভুল লাইনে চলে গেছে, সে যদি সময়মতো থামে এবং লাইন বদলায়, তাহলে গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব। কিন্তু যত দেরি করবে, ক্ষতিও তত বাড়বে।
তোমাদের করণীয় কী
প্রথমে নামাজ ঠিক করো। নামাজ ঠিক হলে অনেক কিছু নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যাবে।
মোবাইলকে প্রয়োজনের জায়গায় রাখো, জীবনের কেন্দ্র বানিও না।
ভালো সঙ্গ বেছে নাও, কারণ সঙ্গই তোমাকে গড়বে বা ভাঙবে।
কুরআনের সঙ্গে প্রতিদিন একটু হলেও সম্পর্ক রাখো।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও।
শেষ কথা
হে যুবক ও যুবতী, তোমরা দুর্বল নও। তোমরা যদি চাও, তাহলে এই ফিতনার যুগেও নিজেদের ঈমান বাঁচিয়ে রাখতে পারো। আল্লাহ তোমাদের নিয়েই একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে চান।
আজ সিদ্ধান্ত তোমার—তুমি কি স্ক্রিনের দাস হবে, নাকি আল্লাহর বান্দা?
আল্লাহ তোমাদের সবাইকে হেফাজত করুন, সঠিক পথ দেখান এবং ঈমানের ওপর দৃঢ় থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।
